এসডিজি অর্জনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার করণীয়

Blog > এসডিজি অর্জনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার করণীয়

এসডিজি অর্জনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার করণীয়

November 21, 2017 | Secretariat | Blog

সৈয়দ মামুনূর রশীদ, ব্যবস্থাপক (প্রশাসন), ঘাসফুল

এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসমূহেরও করণীয় রয়েছে। ইতিমধ্যে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসমূহ এসডিজির অভীষ্ট ও লক্ষ্যমাত্রাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কর্মসূচী প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। তবে এসব কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনার।

দেশে কর্মরত অন্যান্য বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের মত ঘাসফুল-ও এসডিজি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এর বিভিন্ন অভীষ্ট ও লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে। অবহেলিত ও দলিত জনগোষ্ঠির প্রতিক হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয় ঘাসফুল। ঘাসফুল যেমন ফুলের মর্যাদা পায় না, তেমনি সমাজের অবহেলিত জনগোষ্ঠিরাও মূল ধারায় স্থান পায় না। পদদলিত ঘাসফুলরূপী বঞ্চিত, নির্যাতিত জনগোষ্ঠিকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে ঘাসফুল কাজ করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় ঘাসফুল কর্ম-এলাকার সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী, প্রবীণ, চট্টগ্রামের হরিজন, নওগাঁর সাঁওতাল সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষ কর্মসূচী পরিচালনা করছে। এসব কার্যক্রম একই সাথে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের মূলমন্ত্র ‘কাউকে পেছনে রাখা যাবে না’ – এর সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

দীর্ঘদিন ধরে ঘাসফুল নিজস্ব অর্থায়নে হরিজন সম্প্রদায়কে তথ্যপ্রযুক্তি সেবা দিতে হাটহাজারীতে ‘পল্লী তথ্য কেন্দ্র’, মাদারবাড়ি সেবক কলোনীতে ‘শিশু বিকাশ কেন্দ্র’, পশ্চিম মাদারবাড়িতে একটি স্থায়ী ক্লিনিক ও বিভিন্ন স্থানে স্যাটেলাইট ক্লিনিকের মাধ্যমে চট্টগ্রামে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ঘাসফুলের উদ্যোগে ১৪ জন ভিক্ষুককে স্থায়ীভাবে পুনর্বাসন, ১০০ জন প্রবীণকে নিয়মিত বয়স্ক ভাতা প্রদান এবং ১,৮৪১ জন দুস্থ রোগীকে বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন করা হয়েছে। বর্তমানে সংস্থাটি নওগাঁয় প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র মানুষের চোখের চিকিৎসা সেবায় ‘ঘাসফুল ভিশন সেন্টার’ এবং চট্টগ্রামের কর্ম-এলাকায় শ্রমজীবি শিশু ও ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য মোট ১৯৮টি স্কুল পরিচালনা করছে, যার মাধ্যমে প্রায় আট হাজার গ্রামীণ সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি, ঘাসফুল পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়নে দেশীয় শষ্যবীজ সংরক্ষণ, প্রতি বছর গাছের চারা বিতরণ, জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিলুপ্তপ্রায় কিংবা বিলুপ্ত প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের ছবি ও বর্ণনাসহ সংস্থার বার্ষিক দিনপঞ্জি প্রকাশসহ নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। আমরা মনে করি ঘাসফুলের এসব উদ্যোগ নিঃসন্দেহে বাংলাদেশে এসডিজি অর্জনে ভুমিকা রাখতে সক্ষম।

বাংলাদেশে কর্মরত অন্যান্য বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসমুহের মধ্যে ঘাসফুলের বিশেষত্ব বিবেচনায় তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া যায়। প্রথমত, আশির দশকে ঘাসফুলই দেশে প্রথম হরিজন সম্প্রদায়ের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ শুরু করে। দ্বিতীয়ত, ঘাসফুল প্রথম চট্টগ্রামে ১৯৮২ সালে বে-অব-বেঙ্গল প্রজেক্টের মাধ্যমে উপকুলীয় জেলেদের উন্নয়নে কাজ শুরু করে। তৃতীয়ত, ১৯৯০ সালে ঘাসফুল দেশে প্রথম পোশাক শ্রমিকদের স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পেশাগত উন্নয়নে বই প্রণয়ন ও প্রশিক্ষণের কার্যক্রম শুরু করে। ঘাসফুলের শুরু করা এসব কার্যক্রম পরবর্তীতে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক গুরুত্ব পায়। সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভূক্ত করতে অন্যান্য বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানও যদি এ ধরণের কার্যক্রম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে তবে এসডিজি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া আরও তরান্বিত হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

আশা করি, এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ কর্তৃক আয়োজিত আসন্ন ‘নাগরিক সম্মেলন ২০১৭: বাংলাদেশে এসডিজি বাস্তবায়ন’ এসব কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যত কর্মপন্থা নির্ধারণে ঘাসফুলসহ অন্যান্য বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসমূহকে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও দিকনির্দেশনা দিতে পারবে।

Tags:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *